শাহেদ প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানা গোছায়। স্কুল থেকে বাসায় ফিরে এসে স্কুলের ব্যাগ, বই, খাতা, জামা-প্যান্ট, জুতা-মোজা ইত্যাদি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখে। প্রতিদিন পড়ালেখা শেষ করে বই, খাতা, পেন্সিল, কলম সব গুছিয়ে রাখে। বিকেলে খেলা শেষে খেলার সামগ্রীগুলো ঠিক জায়গায় রাখে। ফলে প্রয়োজনের সময় সে সবকিছু হাতের কাছে পায়। প্রত্যেকটা জিনিসের ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। তাই পরিবারের সবাইকে ব্যবহারের পর জিনিসগুলো যথাস্থানে গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করতে হবে। জিনিসপত্র যথাস্থানে যত্ন সহকারে রাখলে সেগুলো টেকসই হয়। গৃহের পরিবেশ থাকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। প্রয়োজনের সময় সেগুলো সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায়। ফলে খোঁজাখুঁজিতে অযথা সময় ও শক্তি অপচয় হয় না। এছাড়া জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে গৃহের সৌদর্য নষ্ট হয় ও বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা থাকে।
গৃহের বিভিন্ন রকম কাজের সুবিধার জন্য আমরা অনেক রকম সাজসরঞ্জাম ও উপকরণ ব্যবহার করে থাকি। যেমন-
রান্না ও খাবার পরিবেশনের সরঞ্জাম- হাঁড়ি, কড়াই, খুন্তি, চামচ, বঁটি, ছুরি, প্রেসার কুকার, ব্লেন্ডার, ওভেন, চুলা ইত্যাদি। এর মধ্যে যেগুলো প্রতিদিন ব্যবহার হয়, সেগুলো রান্না ঘরের তাকে হাতের কাছে রাখা ভালো। আর যেগুলো প্রতিদিন ব্যবহার হয় না, সেগুলো কেবিনেট বা উপরের দিকে রাখা হয়। খাবার পরিবেশনের জন্য প্লেট, গ্লাস, জগ, চামচ, কাঁটাচামচ, ট্রে ইত্যাদি খাবার ঘরে তাকে সাজিয়ে রাখতে পারি।
সেলাইয়ের সরঞ্জাম-এর মধ্যে প্রধান হলো সেলাই মেশিন যা আমরা ঘরের যেকোনো একটা কোনায় রেখে থাকি। সূচ, কাঁচি, ফিতা, বোতাম, সুতা, ইত্যাদি উল্লিখিত অন্যান্য উপকরণ গুলো একটা বাক্সে করে মেশিনের কাছে রাখি।
বাগান করার সরঞ্জাম- ঝাঁঝরি, পানির পাইপ, শাবল, কোদাল, দা, কাঁচি ইত্যাদি। এগুলো ব্যবহারের পর ভালোভাবে পরিষ্কার করে একটা কোণে নির্দিষ্ট তাকে অথবা স্টোর রুমেও রাখা যায়।
লন্ড্রির সরঞ্জাম- বালতি, মগ, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি। এগুলো বাথ রুমে রাখা হয়। ইস্ত্রিটা ইস্ত্রির বোর্ডের সাথে রাখা যায়।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম- ঝাড়ু, ঝুলঝাড়ু, ঘরমোছার সামগ্রী, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ইত্যাদি। এগুলো আমরা স্টোর রুমের একটা কোনায় রাখতে পারি।
পোশাক-পরিচ্ছদ- দৈনন্দিন ব্যবহারের পোশাক-পরিচ্ছদগুলো আমরা আলনা বা ওয়াড্রোবে রাখি। উৎসবে পরার পোশাক বা মৌসুমি পোশাকগুলো আমরা আলমারিতে বা বাক্সে রাখি। এছাড়া জুতা, স্যান্ডেল, মোজা ইত্যাদি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার অভ্যাস করা উচিত। এগুলো রাখার জন্য আলনার নিচের তাক বা জুতার তাক ব্যবহার করতে পারি।
পড়ালেখার উপকরণ- পড়ালেখার উপকরণগুলো যেমন বই, খাতা, কলম ইত্যাদি পড়ার টেবিলের কাছে কোনো তাকে গুছিয়ে রাখি। তাক না থাকলে টেবিলের উপরেও সেগুলো গুছিয়ে রাখতে পারি।

প্রসাধন সামগ্রী- সাজসজ্জার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করি। যেমন- সাবান, শ্যাম্পু, চিরুনি, স্নো-পাউডার, কোল্ড ক্রিম, লিপস্টিক, পারফিউম, শেভিং ব্রাশ, রেজার ইত্যাদি। এগুলো ড্রেসিং টেবিল বা ড্রেসিং রুমের কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলে সুবিধা হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ- তুলা, ব্যান্ডেজ, ডেটল, গরম বা বরফ পানির ব্যাগ, স্পিরিট, বার্নল, ব্যথা কমার ওষুধ, অ্যান্টিসেপটিক পাউডার বা মলম ইত্যাদি। এগুলো আমরা একটা নির্দিষ্ট বাক্সে রাখি, যাকে বলে 'প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স'। এটা একটু উঁচু স্থানে রাখতে হয়। তবে তা যেন সবাই দেখতে ও জানতে পারে।
বিবিধ- বিবিধ জিনিসের মধ্যে আছে- পুরনো খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি। এ জিনিসগুলো যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না থাকে, সেজন্যে কোনো বাক্সের ভিতরে রেখে দিতে পারি। যাতে ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট না হয়।
| কাজ- ১ প্রতিদিন তুমি যে সব জিনিস ব্যবহার করো, সেগুলো কোথায় রাখো-তার একটা তালিকা করো। কাজ-২ তোমার বাসার প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্সে কী কী থাকা দরকার সেগুলো লেখো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ছোট ভাইয়ের হাত পুড়ে গেলে সোহানা শোকেসের উপর থেকে একটি বাক্স এনে সেখান থেকে বার্ণল বের করে লাগিয়ে দিলো।
Read more